পর্ব ২: তাঁহার আগমনের পূর্বাভাস

পর্ব ২: তাঁহার আগমনের পূর্বাভাস

পর্ব ২: তাঁহার আগমনের পূর্বাভাস

পর্ব ২: তাঁহার আগমনের পূর্বাভাস

--

প্রাচীন কিতাবে ছিল যে পূর্বাভাস লেখা,

শেষ নবীর আগমন হবে, মিলবে উম্মাহর রেখা।

তাওরাতে, ইঞ্জিলে, সাহিফার আসমানি আয়াতে,

ঘোষিত ছিল তাঁর আগমন, প্রেম, দয়া, আর বাণীতে।

ইবরাহিমের দোয়ায় ছিল সেই মহামানবের ঠিকানা,

মক্কার বুকেই উঠবে সেই নবী, সত্য যার মানা।

ওহে প্রভু,” বলেছিলেন ইবরাহিম, “তোমার পথে করো নেতৃত্ব,

আমার বংশে প্রেরণ করো, যিনি দিবে মানবতাকে মুক্তি-সূর্য্যর দীপ্ত।

ইসা (আ.) বলেছিলেন, “আমার পরে আসবেন তিনি,

আহমদ নাম যার, তিনি দিবেন প্রেমের তাজমহল গাঁথা খনি।

এই ছিল প্রতিশ্রুতি, যেটি জানতো ইহুদি, জানতো নাসারা,

কিন্তু গর্ব, লোভ, ও ক্ষমা না থাকা করল তাঁদের মন হারা।

শুক্রগ্রহের ভাষ্য ছিল আশ্চর্য কিছু আসমানি সংকেত,

নক্ষত্র বলিলো, “আসে এক আলোকবর্তিকা, যাঁর নেই অহংকারের রংতুলে রেখা সেট।

মরুর ঝড় থেমে যেতো, খেজুর গাছ মাথা নত করিত,

প্রতিটি সৃষ্টি যেন জানতোতিনি আসবেন, যিনি শান্তি বরণ করিত।

আশার বাতিঘর হয়ে, আরব জুড়ে ছড়াইত রহস্য,

যাঁর চরণধূলি পেতে মরু করে প্রার্থনার উৎসব উপচায় সংশয়ছত্র।

দাশীদের চোখে স্বপ্ন, যেথায় বন্দী স্বত্বা কাঁদে,

তারা জানতো, আসবে একজনযিনি মুক্তির আলো বাঁধে।

যাযাবর বেদুইন যখন রাতের আকাশে তাকায়,

তারা গুণে তারা, দেখে অচেনা রেখায়।

তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, “কে আসিবে এই রাত্রিতে,

যাঁর চরণে দস্যু বদলে যাবে প্রেমের স্রোতের ভিতরে?”

কিসরার সভাসদ কাঁপে ভয়ে, সিন্ধুর মন্দির থমকে যায়,

মরুপ্রান্তের খেজুর গাছে আগুন ওঠে নাঅশরীরী ভয় ছায়ায়।

বিজ্ঞান হেরে যায় পূর্বাভাসে, ঈশ্বরের ইঙ্গিত স্পষ্ট,

শুধু অবিশ্বাসীরা তখনো ছিল চেতনায় তপ্ত।

একজন পুরুষ আসিবেন, যিনি শব্দে আনিবেন জাগরণ,

যাঁর স্পর্শে পাপ মোচন হবে, মিলিবে আত্মার কল্যাণ

তাঁহার চোখ হবে দীপ্ত, কণ্ঠ হবে প্রজ্ঞার ঢেউ,

তাঁহার হাসি হবে করুণা, আর ভাষা হবে আসমান-ছোঁয়া নীল রৌ।

তিনি বলবেন: "সকল মানুষ ভাই, জাতে কিংবা বর্ণে নয়,

অন্যায় করলে কেউই ছাড় পাবেনা, সত্যের সাথেই জয়।

পৃথিবীর এত অপেক্ষা, প্রার্থনা আর অশ্রুপাত,

সেই সব ঘনিয়ে উঠে প্রস্তুত হলো নবীর প্রভাত।

তাঁর আগমন পূর্বেই হেরা গুহা পেয়েছিল শিহরণ,

আকাশ জানতো নাম, পৃথিবী জেনেছিল চরণ।

এ মহামানব আসিবার আগে প্রকৃতি করে আয়োজন,

শান্তি আসিবে পৃথিবীতে, নিঃশেষ হবে পাপের চিহ্ন ও রোজন।