জল উঠে ঘর ডুবে যায়
জল উঠে ঘর ডুবে যায়
জল উঠে ঘর ডুবে যায়
জল উঠে, ঘর ডুবে যায়, মুখ মুছে দেয় নদী,
চোখে লেগে থাকে শুধু বিস্মৃত ঠাঁইয়ের গন্ধ।
নাড়ির মাটি পেছনে ফেলে পায়ে জোটে পাঁক,
ভবিষ্যতের নামে আজ ছিন্ন শিকড়ের ডাক।
সুন্দরবনে ঝড় আসে,
ভাসে গোটা গ্রাম,
জন্ম তার দেশে হয়, মৃত্যু ঘটে ব্যারাকে।
কেউ বলে তারা "নেই কেউ", কেউ
রাখে তালিকা,
কারণ জল তো জাত বোঝে না, বুঝে না গেরুয়া
কায়দা।
তাদের নেই যুদ্ধ,
নেই বিস্ফোরণ, নেই কোন ষড়যন্ত্র,
তবু তারা বন্দী হয়, ঠাঁইহীন এক
চক্রান্তে।
মালদ্বীপ ধীরে ডুবে যায়, নাম নেই সেই
কবর,
তাদের রাষ্ট্র শুধু মানচিত্রে, বাস্তবে
নেই ঘর।
পাপুয়া, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ—সব জায়গায়
নতুন করে উঠে নদী, বাঁচতে হয় পলায়নে।
বাঙালিদের কেউ পছন্দ করে না বিদেশে,
জলে ভেসে আসা দেহ পায় না ঠাঁই হিমদেশে।
জিজ্ঞেস করো—জল কি চায়?
ঘর কেন নেয় ভাসায়?
জিজ্ঞেস করো—মানুষ কেন হয়ে উঠে ঠাঁইহীন খড়কুটো?
এই পৃথিবী যদি বাসযোগ্যই না থাকে শেষত,
তবে কোথায় যাবে তারা—যারা দোষ করেনি কোনো?
