অস্তিত্ববাদ বনাম অধঃপতন

অস্তিত্ববাদ বনাম অধঃপতন

অস্তিত্ববাদ বনাম অধঃপতন

 অস্তিত্ববাদ বনাম অধঃপতন

“আমি কে?”— প্রশ্ন উঠে শহরের মেঝেতে,
প্রশ্ন করে আয়নার ছায়া— “তুমি বাঁচছো কিসের তরে?”
নাই কোনো ঈশ্বর, নাই কোনো চূড়ান্ত মানে,
তবু মানুষ খোঁজে অর্থ— কষ্ট আর পাথরে।
জন্ম, মৃত্যু, প্রেম— সবই যদি নিঃসার,
তবে কেন কাঁদি একটিবার ভালোবাসা হারালে বারবার?
নিখিল শূন্যতায় বাঁচে গগন-ছোঁয়া শহর,
তবু আত্মহত্যা বাড়ে, কারণ হৃদয় খুঁজে পায় না পর।
ক্যাফেতে বসে হাসে, ভিতরে থাকে শুন্য,
এই ছলনায় গড়ে উঠে এক আধুনিক আত্ম-অভিনয়।
কর্মক্ষেত্রে সাফল্য, হৃদয়ে বিষণ্নতা,
মানব জাতি কি শুধু সংখ্যার লভ্যতা?
নিয়তিবাদ বলে— “তুমি কিছুই নও,”
অস্তিত্ববাদ বলে— “তুমি যা বেছে নাও, তাই হও।”
তবু মানুষ হারায় নিজেকে, অবচেতন দংশনে,
অর্থহীনতার বোঝা বইতে গিয়ে ডুবে যায় চিন্তন সঞ্চয়ে।
কবিতা বলে— “তুমি প্রশ্ন, কিন্তু তুমি উত্তরও”,
এই জীবনের যন্ত্রণায় জেগে থাকাই তো চির সংগ্রাম হো।
অস্তিত্ব মানে যুদ্ধ, মানে চেতনার আলো,
এটাই পরিত্রাণ, যখন সব কিছু হয় নির্দয় কালো।